আজ ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পতেঙ্গায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের জায়গা দখলে এবার সাঁটানো হলো সাইনবোর্ড


নিজস্ব প্রতিবেদক 

বন্দর নগরীর পতেঙ্গা থানাধীন চরবস্তি এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষকের জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষরা একের পর এক হামলা চালানোর পর এবার সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দিয়েছে। এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সাবেক বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা সোলাইমান মাস্টার অসুস্থ হওয়ার সুবাধে প্রতিপক্ষরা জায়গা দখলে এমন মরিয়া হয়ে উঠেছে। সোলাইমান মাস্টারের প্রায় ২৫ বছর আগের ক্রয়কৃত ওই সম্পত্তি ও বসতভিটে মাটি নিজেদের দাবি করে ওই মাস্টারের পরিবারকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করতে একাধিক বার তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে ইসমাইল হোসেনকে একাধিক বার মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ভুক্তভোগী সোলাইমান মাস্টারের পরিবারের দাবি জায়গার দলিল,নামজারি ও খাজনা সবকিছু ঠিক থাকার পরও মামলা-হামলা শিকার হচ্ছি। গত ৯ এপ্রিল থানা থেকে সহযোগিতা না পেয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রসাশক, সিএমপি পুলিশ কমিশনার, সিএমপি ডিসি বন্দর,এসিল্যান্ড পতেঙ্গা সার্কেলে ভূমি অফিস এ লিখিত অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জায়েদ মো. নূর বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সোলাইমান মাস্টারের বাড়ীর সীমানা দেওয়াল ভাংচুর ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলার ঘটনায় পতেঙ্গা মডেল থানায় মামলা রয়েছে। এছাড়া সাইবোর্ড সাঁটানোর সময় সোলাইমান মাস্টারের পরিবারের পক্ষ থেকে জাতীয় জরুরী সেবায় ফোন করা হলে পুলিশ গিয়ে প্রতিপক্ষকে মাষ্টের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পুলিশ সব সময় শান্তি শৃংখলা রক্ষার্থে সজাগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

সিএমপি পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ওই এলাকার ইসমাইল ও তার লোকজন গতবছর সালাইমান মাস্টারের বাড়ীর সীমানা দেওয়াল ভাংচুর করে তার তিন পুত্র ও বাড়িতে কাজের মিস্ত্রির ওপর হামলা করলে পতেঙ্গা মডেল থানায় একটি ফৌজদারি মামলা (নং-১৮(৪)২১) দায়ের করা হয়। মামলা চলমান অবস্থায় একাধিকবার জায়গা দখলে নিতে হামলার পরিকল্পনা করে ইসমাইল গংরা। সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল সুপরিকল্পিতভাবে জায়গা দখল ও সাইনবোর্ড লাগাতে বোপোরোয়া হয়ে উঠলে সোলাইমান মাস্টারের পুত্র মোহাম্মদ আলী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে ওদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। অভিযোগে আরো বলা হয়, ইসমাইল হোসেন, আব্দুস সালাম, আব্দুল মুজিব, সোহাগ আরেফিনসহ ২০ থেকে ২৫ জন যুবক হামলার উদ্দেশ্য সংঘবদ্ধ হয়। পতেঙ্গা থানায় ডায়েরি করতে গেলে থানা থেকে আদালতে পরামর্শ দেন। কিন্তু ২ দিন পরে ইসমাইল গংদের করা জিডি মুলে নোটিশ আসে সোলাইমান মাস্টারের পরিবারের বিরুদ্ধে।

সোলাইমান মাস্টার বলেন, আমি ১৯৯৮ সালে মোহাম্মদ ইছাক মিয়ার কাছ থেকে সাফ কবলা (২৮৮৭ নম্বর) মূলে ক্রয় করা সম্পত্তির আর. এস নম্বর ১৫৫৩/১২৫৩, খতিয়ানের দাগ নং- ৮৪৯০/৮৪৯১ এবং পি. এস ১৮৮২/১৮৮৪ নং-খতিয়ানের ৯১৯৫/৯১৯৬ দাগের-বি. এস ৩৭৩/৩৭৪ খতিয়ানের ৯২০২/৯২০৩ দাগের ১১ গন্ডা নাল জমি ২০০৬ সালে নামজারি করি। গত ২৫ বছর ধরে আমি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে নির্বিঘ্নে বসবাস করছি।

তিনি বলেন, ইসমাইলরা উক্ত জায়গা নিজেদের দাবি করে ২০২০ সালের ২৭ ডিসেম্বর ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৫ ধারায় মামলা (নং-১৬৬২/২০২০) করেন। মামলার লিখিত জবাবে ৯২০২ বিএস দাগের মধ্যে আমাদের স্বত্ত দখলীয় অংশের বাইরের জায়গার বিষয়ে স্বাভাবিক কারণে কোনো দাবী বা আপত্তি নেই। ইসমাইল গং এই বক্তব্যের খন্ডিত অংশ নিয়ে পুলিশ প্রশাসনসহ নানান মহলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

ভুক্তভোগীর আইনজীবী ব্যারিস্টার সওগাতুল আনোয়ার খান বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সোলাইমান মাস্টার বর্তমান ভীষণ অসুস্থ। ইসমাইল গংরা জোর করে সাইনবোর্ড লাগনোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোলাইমান মাস্টারের পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করে আসছে। খুবশীঘ্রই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হবে বলে জানান।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর