আজ ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সংগৃহীত ছবি

রুমির মৃত্যুতে বিনোদন পাড়ায় শোকের ছায়া


অনলাইন ডেস্কঃ মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়তে লড়তে অবশেষে না ফেরার দেশেই পাড়ি জমালেন টিভি পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা অলিউল হক রুমি। সোমবার (২২ এপ্রিল) ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে শিল্প জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অভিনেতা জিয়াউল হক অপূর্ব জানিয়েছেন, ‘টেলিভিশন নাটকের জনপ্রিয় মুখ অলিউল হক রুমি ভাই কিছুক্ষণ আগে মৃত্যুবরণ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’

জানা গেছে, কিছুদিন আগেও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। দোয়া চেয়েছিলেন সবার কাছে। সুস্থ্য হয়ে আবারো অভিনয়ের বর্ণিল জীবনে ফেরার ইচ্ছেটাও ছিল মনে। কিন্তু না, সেই ইচ্ছে আর পূরণ হয়নি।

অভিনেতা হিসেবে যেমন দর্শকপ্রিয় ছিলেন রুমি, তেমনি শোবিজ পাড়ায় তার হাসিখুশি মেলামেশার কথা সবারই জানা। সজ্জন এই মানুষটির চলে যাওয়ায় তাই শোকের মাতম বইছে বিনোদন পাড়ার সবার মনে।

রুমির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ক্যানসারে আক্রান্ত রুমিকে চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইতেও নেওয়া হয়েছিলো। শেষে দেশেই চলছিলো চিকিৎসা। কিন্তু ফিরলেন না আর জীবনের উদ্যানে।

আরও পড়ুন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে ভিলেন

অভিনয় জীবনের তিন দশকেরও বেশি সময় পার করেছেন রুমি। দীর্ঘ এ পথচলায় অভিনয় করেছেন অসংখ্য নাটক ও সিনেমায়। অভিনয় নৈপুণ্য দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে চলেছেন। পর্দায় তার উপস্থিতি যেন বাড়তি আনন্দ দেয় দর্শকদের। গত কয়েক বছর এই অভিনেতা বরিশালের আঞ্চলিক ভাষাতে বেশি অভিনয় করে আসছিলেন। এ ভাষাতেই তিনি দর্শকদের হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেনও।

বরগুনায় জন্ম অলিউল হক রুমির। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক ও মা হামিদা হক। পরিবারে তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট রুমি।

রুমির অভিনয়ের শুরু থিয়েটার বেইলি রোডের ‘এখনও ক্রীতদাস’ নাটকের মধ্য দিয়ে। সেটা ১৯৮৮ সালে। একই বছর ‘কোন কাননের ফুল’ নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় অভিষেক হয় তার। টেলিভিশনের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন সিনেমায়ও। ২০০৯ সালে ‘দরিয়াপাড়ের দৌলতি’ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে– ‘সাজেশন সেলিম’, ‘বোকাসোকা তিনজন’, ‘মেকাপ ম্যান’, ‘ঢাকা টু বরিশাল’, ‘ঢাকা মেট্রো লাভ’, ‘বাপ বেটা দৌড়ের উপর’, ‘আমেরিকান সাহেব’, ‘জার্নি বাই বাস’, ‘বাকির নাম ফাঁকি’, ‘জমজ-৫’, ‘জমজ-৬’, ‘জমজ-৭’, ‘জমজ-৮’, ‘জমজ-৯’, ‘জমজ-১০’, ‘রতনে রতন চিনে’, ‘২০০ কদবেলী ইত্যাদি’, ‘সোনার শিকল’, ‘কমেডি ৪২০’, ‘প্রেসিডেন্ট সিরাজউদ্দৌলা’, ‘আকাশ চুরি’, ‘চৈতা পাগল’, ‘জীবনের অলিগলি’, ‘মেঘে ঢাকা শহর’ ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর