আজ ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মহেশখালীর পান

বাজার হারাচ্ছে মহেশখালীর বিখ্যাত মিষ্টিপান


একাধিক কারণে ধীরে ধীরে কমছে উৎপাদন, দেশে-বিদেশে বাজার হারাচ্ছে মহেশখালীর মিষ্টিপান। ‘যদি সুন্দর একখান মুখ পাইতাম…মইশখালীর পানের খিলি তারে বানাই খাবাইতাম…’। শিল্পী শেফালী ঘোষের জনপ্রিয় এ গান হয়ত অনেকে শুনে থাকবেন। মইশখালী বা মহেশখালীর মিষ্টিপান সে যুগেও যেমন, এই যুগেও তেমনি মন কেড়ে নেয় মানুষের। বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর মাটি ও আবহাওয়ায় জন্মে মিষ্টিপান। স্থানীয় পানচাষিদের অনেকে মনে করেন, সম্রাট আকবরের আমল থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পানের জনপ্রিয়তা বাড়ে। আঠারো শতকের শেষে চট্টগ্রামে আসা ড. ফ্রান্সিস বুকানন মহেশখালী দ্বীপে পানের বরজ দেখতে পান। সেই গল্প রয়েছে তাঁর ভ্রমণকাহিনিতে।

জানা গেছে, করোনাকালে রপ্তানি কমে যাওয়া, লোকসানসহ একাধিক কারণে মহেশখালী অঞ্চলে কমছে মিষ্টিপানের আবাদ। বর্তমানে বিখ্যাত এই মিষ্টিপান আশানুরুপ রপ্তানি হচ্ছে না। কয়েকবছর আগে এশিয়া মহাদেশ ছাড়াও ইউরোপ-আমেরিকা এমনকি আফ্রিকাতেও রপ্তানি বাজার তৈরি হয়েছিলো। বর্তমানে সেই বাজার বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মিষ্টি পান দখল করেছে।

জানা গেছে, সমগ্র বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ মিষ্টিপান মহেশখালী দ্বীপে উৎপাদিত হয়ে থাকে। এ অঞ্চলের মিষ্টিপানের মান অত্যন্ত ভালো হওয়ায় এর দামও অন্য জাতের বা স্থানের পানের তুলনায় বেশি। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পান ব্যবসায়ীরা এখান থেকে মিষ্টিপান কিনে বড় বড় টুকরিতে (ঝুড়ি) ভর্তি করেন। স্থানীয় পানচাষিরাও টুকরিতে করে মহেশখালীর বিভিন্ন হাটবাজারে মিষ্টিপান নিয়ে যান। তবে এ অঞ্চলের বাজার এখন ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে।

মহেশখালীর পানের বরজ সাধারণত দুই ধরনের- পাহাড়ি বরজ এবং বিল বরজ। উপজেলার বড় মহেশখালী, হোয়ানক, কালারমারছড়া, ছোট মহেশখালী ও শাপলাপুর ইউনিয়নের পাহাড়ের ঢালু ও সমতল কৃষি জমিতে যুগ যুগ ধরে পান চাষ করে আসছে স্থানীয় পানচাষিরা। জমির শ্রেণি অনুসারে পাহাড়ি এলাকার ভূমিতে পান চাষ দুই থেকে তিন বছর স্থায়ী হলেও সমতল জমিতে পান চাষ হয় মাত্র ছয় মাস। সমতল জমিতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়ে মে-জুনে শেষ হয়। অপরদিকে পাহাড়ি ঢালু জমিতে পান চাষ হয় বছরের যেকোনো সময়। এক বিরা বড় মিষ্টিপান ৪৪০ থেকে ৫০০ টাকা দামে বিক্রি হয়। মাঝারি পান এক বিরা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দামে বিক্রি হয়। আর ছোট পানের বিরা বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা দামে। চারটি পানে হয় এক গণ্ডা, এভাবে ৪৫ গণ্ডা পানকে এক বিরা বলা হয়। সপ্তাহে অন্তত দুদিন মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকায় পানের হাট বসে।

সম্প্রতি কুষ্টিয়া জেলার পান দেশের বিভিন্ন এলাকায় খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ পান এখন দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে যাচ্ছে বিদেশে। এ কারণে কুষ্টিয়া সদর, মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে পানের আবাদ। কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরে পান চাষ হয়েছিল ২ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে। ২০২১-২২ অর্থবছরে জেলায় ২ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা আশা করছেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। ২০২১-২২ অর্থবছরে কুষ্টিয়া জেলার তিনটি উপজেলা থেকে বছরে গড়ে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার পান রপ্তানি হচ্ছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর