আজ ২২শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

সংগৃহীত ছবি

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ ছাড়লেন বিএনপির আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া


বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পদ ছেড়েছেন ৫ বারের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। এর আগে, সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে মাঈনুল হাসান তুষার।

শনিবার সন্ধ্যায় মাঈনুল হাসান বলেন, ‘বিএনপি বর্তমানে বাবাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না, এমনকি দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নিতেও ওনাকে ডাকছে না। তাই আমাদের কাছে মনে হয়েছে, দলীয় কর্মকাণ্ডে থাকার প্রয়োজন নেই। ফলে, আমরা পারিবারিকভাবে বাবার নিরিবিলি সময় কাটানোকেই শ্রেয় মনে করছি।’

এর আগে, চলতি মাসের ১১ ডিসেম্বর বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পরমানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বর্ষীয়ান এই নেতা মোট ৫ বার ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ঘোষণা হওয়ার আগে ১৯৭৯ সালে তৎকালীন কুমিল্লা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। পরবর্তীতে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে তৎকালীন ৪ দলীয় জোটকে আসনটি ছেড়ে দেন এবং সরকার তাকে টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে আইন, মৎস্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। তবে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে তিনি একপ্রকার নিষ্ক্রিয় ছিলেন।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য হিসেবে জয়লাভ করেন। তবে, চলতি মাসে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তে এই পদ থেকে পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার এই আসনটি শূন্য ঘোষণা করেন।

এই আসনে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উপনির্বাচনকে সামনে রেখে দল থেকে পদত্যাগ করায় তাকে নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর