আজ ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সংগৃহীত ছবি

‘পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রয়োজন ২৩০ বিলিয়ন ডলার’


পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বেসরকারিখাত কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। সম্প্রতি লন্ডনের ম্যানশন হাউসে কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২২-এ ‘ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড প্রফেশনাল সার্ভিসেস দ্যা রোল অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড রেগুলেশনস অন দ্যা রোড টু নেট জিরো’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আলোচনায় অন্যতম বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্বের সর্বনিম্ন নির্গমনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও, নির্গমন নিয়ন্ত্রণের বৈশ্বিক প্রচেস্টার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৮৯ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন টন কমাতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা ২১ দশমিক ৮৫ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইডের সমান। সেই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ, পরিবহন, শিল্প, গৃহস্থালী, বাণিজ্যিক, কৃষি, ইটভাটা এবং ধাবমান নির্গমনের মতো জ্বালানি খাত থেকে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ নির্গমন কমাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। অবশিষ্ট ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কৃষি ও পশুসম্পদ, বনায়ন এবং নগরের কঠিন বর্জ্য থেকে কমানো হবে বলে জানান তিনি।

পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, পরিবেশবান্ধব মান বজায় রাখতে বাংলাদেশের শিল্পকারখানাগুলো উদ্ভাবনমূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী গ্রিণহাউস গ্যাস (জিএইচজি) নির্গমনে বাংলাদেশের বর্তমান অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ, কার্বন নির্গমনের অংশ মাত্র শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ। তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে যার মধ্যে ৯০ টি উচ্চ-অগ্রাধিকারসহ মোট ১১৩ টি পদক্ষেপ রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে ২০৫০ সাল নাগাদ ২৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।

মো. জসিম উদ্দিন আরও জানান, বিশ্ব অর্থনীতিকে কার্বন নি:সরণের ক্ষেত্রে নেট-জিরোতে রূপান্তর করতে এবং জলবায়ু বিপর্যয় এড়াতে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের ২৭তম (কপ-২৭) সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নের উপর বাংলাদেশ জোর দিয়েছে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বেসরকারী খাতের বিনিয়োাগ, সবুজ বা নীল বন্ডের মতো উদ্ভাবনী অর্থায়ন, ঝুঁকি স্থানান্তর বা বীমার সমন্বয়ের মাধ্যমে জলবায়ু অর্থায়নকে চালিত করা যেতে পারে বলে।

ইস্ট এন্ড কমিউনিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং সিটি অফ লন্ডনের অল্ডারম্যান ব্রোনেক মাসোজ্যাডার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই গোলটেবিল বৈঠকে ইউকে অ্যাক্রিডিটেশন সার্ভিসের চেয়ারম্যান লর্ড লিন্ডসে, ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড ইনস্টিটিউশন- বিএসআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুজান টেইলর মার্টিন, ইনস্টিটিউট অব এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এর ডিরেক্টর জেনারেল মার্কো ফরজিওন, এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, আবু হোসেন ভুঁইয়াসহ বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যরা আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাসস


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর