আজ ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

সাতকানিয়ায় এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অসহায় পরিবারকে উচ্ছেদের অভিযোগ


সাতকানিয়া প্রতিনিধিঃ

সাতকানিয়ায় সহকারী কমিশনার(ভুমি)’র বিরুদ্ধে ভুমিহীন এক অসহায় পরিবারকে সরকারী খাস খতিয়ানের জায়গা থেকে ফিল্মি স্টাইলে জোর পূর্বক উচ্ছেদ করার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার বিকাল ৫ টায় উপজেলার পূর্ব নলুয়া রুস্তম পাড়া এলাকায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগি পরিবারের কর্ত্রী জাফর আহমদের স্ত্রী আছিয়া খাতুন কেরানীহাট এলাকার একটি হোটেলে গত —- বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সহকারী কমিশনার(ভুমি)’র বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন পরিবারের সদস্য মো. কাউচার আলম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নলুয়া মৌজার বিএস খতিয়ানের ৯৫০৯ দাগের ৩ শতক(দেড় গন্ডা) পরিমানের বাড়ি ভিটের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে আছিয়া খাতুনের পরিবার নিজ দখলে স্থিত থেকে গৃহ নির্মান করে বসবাস করে আসছিল। পরবর্তীতে বসবাসরত পরিবারের অজান্তে ওই জায়গা খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। বিষয়টি এলাকার ভুমিদস্যু সুচতুর আবু সৈয়দ জানতে পেরে গোপনে উপজেলা ভুমি অফিস ম্যানেজ করে নিজ নামে বন্দোবস্তি নেন। আবু সৈয়দ বন্দোবস্তি নিয়ে জনৈক সুরত আলী গংয়ের নিকট বিক্রি করার পাঁয়তারা শুরু করলে আছিয়া খাতুনের পরিবার তা’ জানতে পারে। তখন আছিয়া খাতুন পরিবার জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগসহ ওই বন্দোবস্তি বাতিলের জন্য একটি মামলা দায়ের করেন।পরবর্তীতে বন্দোবস্তি প্রাপ্ত আবু সৈয়দের ভোগ দখলে না থাকায় উক্ত বন্দোবস্তি বাতিল হয়।

ভুমিহীন হিসেবে আছিয়া খাতুন পরিবার তাদের নামে বন্দোবস্তি পাওয়ার আবেদন করেন। এরপর থেকে ভুমিদস্য আবু সৈয়দ ও সুরত আলী গং ওই জায়গা দখলের আপ্রান চেষ্টা করতে থাকেন। এক সময় তারা আছিয়া খাতুনের পরিবারের উপর হামলাও চালান। যা’ নিয়ে বিভিন্ন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হলে বেশ কিছু সময় ভুমিদস্যুরা নীরব ভুমিকা পালন করেন।

উপজেলা ভুমি অফিসে কাননগো মখ্যা মারমা যোগদান করলে তার যোগসাজশে মোটা অংকের উৎকোস দিয়ে ভুমিদস্যুদের পক্ষে একটি রিপোর্ট তৈরী করান। এর বিরুদ্ধে আছিয়া খাতুন পরিবার সিনিয়র সহকারী জজ সাতকানিয়ার আদালতে একটি মামলা(অপর মামলা নং-২১২/২০১৯) দায়ের করেন। যা’ অদ্যাবধি চালমান রয়েছে।

ইতোমধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে সুরত আলী ও তার ভাড়াটিয়া মাস্তান বাহিনীর হামলার শিকার হলে আছিয়া খাতুন পরিবার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে থানা প্রশাসন ভুমিদস্যুর সুরত আলীর নিকট হতে ওই জায়গায় আর কখনো অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করবে না মর্মে মোচলেকা গ্রহন করেন।

মোচলেকা দেয়ার পরেও গত মঙ্গলবার বিকালে রহস্যজনকভাবে সাতকানিয়া এসিল্যান্ড নিজে উপস্থিত হয়ে অবৈধভাবে অসহায় পরিবারের বসতঘর ভেঙ্গে দেন। এ সময় আছিয়া খাতুন পরিবার আদালতের চলমান মামলা ও আদেশ প্রদর্শন করলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) তা’ ছুড়ে ফেলে তাদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দায়েরের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন আছিয়া খাতুন।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আদিনাথ মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা অরুণ মজুমদার, হাবিবুর রহমান, রেজিয়া বেগম ও ইকবাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বলেন, যে জায়গা হতে আছিয়া খাতুনের পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয় তার পাশেই আরো কয়েকজন খাস জায়গায় বসত বাড়ি নির্মান করে অবস্থান করলেও এসিল্যান্ড ওই জায়গায় কোন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেননি। তারা আরো বলেন, তিনি মূলতঃ ভুমিদস্যুদের পক্ষ নিয়ে তাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য উচ্ছেদ অভিযানের নামে নাটক মঞ্চস্থ করেছেন।

ঘটনাটি সিনিয়র সহকারী জজ সাতকানিয়ার আদালতের নজরে আসলে গতকাল বৃহষ্পতিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি)কে এ উচ্ছেদ অভিযান কেন অবৈধ নয় মর্মে ব্যাখ্যা তলব করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাতকানিয়া আইনজীবি সমিতির সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী কচির।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) আরাফাত ছিদ্দিকী বলেন, উচ্ছেদ আদেশের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, অবৈধভাবে সরকারী জায়গা জবরদখল করে রাখার কারনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর