উৎপাদনকেন্দ্রিক নতুন অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তুলতে হবে: আমির খসরু


নিউজ ডেস্ক: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে টেকসই পথে নিতে হলে ঋণ ও টাকা ছাপানোর প্রবণতা থেকে বের হয়ে বিনিয়োগ ও উৎপাদনকেন্দ্রিক নতুন অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন গ্রাম, শহর, কুটির শিল্প, ডিজিটাল সেক্টর, স্পোর্টস, কালচারসহ সব খাতের মানুষ অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করবে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, দেশের গ্রামীণ কারিগর-তাঁতি, কামার, কুমারসহ কুটির শিল্পের পেছনে সরকারি বিনিয়োগের অভাবে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়নি। সহজ ঋণ, কাঁচামালের যোগান, স্কিল উন্নয়ন, ডিজাইনিং, ব্র্যান্ডিং ও অনলাইন মার্কেট অ্যাক্সেস নিশ্চিত করা গেলে এই খাতই বড় অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারে। গ্রামে বসে অ্যামাজন-ইবের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব, এটাই নতুন অর্থনীতির রূপরেখা।

আমির খসরু বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতি দাঁড়াতে হলে পুরো দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে হবে। এতে কল সেন্টার, ডেটা সেন্টার, অনলাইন রিয়েল-টাইম ব্যবসা, সবকিছুই প্রতিটি মানুষের নাগালে যাবে।

থাইল্যান্ডের ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ মডেলের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সঠিক সরকারি সহায়তা পেলে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের বিশেষায়িত পণ্য বিশ্ববাজারে জায়গা করে নিতে পারবে।

স্পোর্টস ও সংস্কৃতি খাতকে বড় অর্থনৈতিক ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ে স্পোর্টস সেন্টার হবে। খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এও একটি বড় অর্থনীতি। মানুষ খেলা দেখতে গেলে সেটাও জিডিপিতে যোগ হয়। একইভাবে থিয়েটার, মিউজিক, ফোক কালচার, সবই অর্থনীতির অংশ।

বিএনপির ঘোষিত ‘১৮ মাসে এক কোটি চাকরি’ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আমাদের অ্যাম্বিশন। প্রতিটি সেক্টরের জন্য চাকরির হিসাব, সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও রোডম্যাপ আগে থেকেই প্রস্তুত আছে।

ব্যাংকনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে ক্যাপিটাল মার্কেট শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মার্কেট ক্যাপ জিডিপির মাত্র ৫–৬ শতাংশ। ভারতে ১২৫ শতাংশ, আমেরিকায় দ্বিগুণ। উন্নয়ন প্রকল্প, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নগর উন্নয়নে ক্যাপিটাল মার্কেটকে কাজে লাগাতে হবে। আইএমএফ-এর পেছনে দৌড়ানোর প্রয়োজন হবে না। বাংলাদেশ ওভার-রেগুলেটেড দেশ। সরকারি দপ্তরের ঘুরাঘুরি কমাতে সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থায় সব সেবা আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি জেলায় স্কিল সেন্টার গড়ে তুলে তরুণদের দেশ-বিদেশে উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থানের উপযোগী করা হবে। টাকা ছাপিয়ে বা ঋণ নিয়ে কোনো অর্থনীতি টেকসই হয় না। বিনিয়োগ, উৎপাদন ও ভ্যালু অ্যাডিশন, এই পথেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এগোবে।


Related posts

খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন কালীবাড়ী বাজারে দত্ত জুয়েলার্সে ডাকাতি

Chatgarsangbad.net

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে ১২ লাখ শিক্ষার্থী

Mohammad Mustafa Kamal Nejami

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত ৬৭

Chatgarsangbad.net

Leave a Comment