আজ ৯ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ফটিকছড়িতে চাঁদের গাড়ী উল্টে দুই স্কুল শিক্ষার্থী নিহত, মহাসড়ক অবরোধ


ট্রাফিক পুলিশের তাড়া খেয়ে ধানবাহী চাঁদের গাড়ির উল্টে হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ২ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারী(বুধবার) দুপুর সাড়ে ১২ টায় পেলাগাজি দীঘির সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

এতে পাইন্দং ইউনিয়নের মোল্লার বাড়ীর আবুল বশরের কন্যা মিশু আকতার(১৫) ও একই এলাকার তুফান আলী বাড়ীর লোকমানের কন্যা নিশা মনি (১৫) ঘটনা স্থলেই নিহত হয়। স্থানীয়রা গাড়ীর নিচ থেকে তাদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে ঘটনার বিষয় জানাজানি হলে জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ সার্জেন্ট মিতিল চাকমা ও আলামিন তাদের মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর অপর একটি আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ঘটনার পর থেকে দুপুর ২.৪০ মিনিট পর্যন্ত চট্টগ্রাম হতে খাগড়াছড়ি মহাসড়ক, ফটিকছড়ি হতে হেঁয়াকো সড়ক, পেলাগাজি দীঘি হতে বারৈয়ারঢালা সড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষোভকারীরা। পরে এডিশনাল এসপি শাহদাৎ হোসাইন, ফটিকছড়ি নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুহাম্মদ মহিনুল হাসান, ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল ইসলাম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদর্শী ইলিয়াস হোসাইন সানি বলেন, সাড়ে ১২ টার সময় পুলিশের সার্জেন্ট(টিআই) মিতিল চাকমার সাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। কাজিরহাট থেকে ধানবাহী জিপ(ঢাকা – গ -৮৪৫৪) গাড়ীটি বিবিরহাটের দিকে যাচ্ছিল। এসময় ট্রাফিক পুলিশের অন্য এক কর্মকর্তা তাকে সিগ্ন্যাল দিলে সে পালিয়ে যেতে চাইলে মোড়ে গাড়িটি উল্টে যায়। এতে প্রাইভেট থেকে ফেরা ছাত্রী দুইটি ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এদিকে, ঘটনার পর থেকে চাঁদের গাড়ীর চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। অবরোধ থেকে বিক্ষোভকারীরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার সঠিক তদন্ত করে হাইওয়ে পুলিশের বিচার দাবী করেন। এছাড়া বিনা ময়নাতদন্তে লাশ দাপনের ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ও ফটিকছড়ি যে কোন স্থান থেকে হাইওয়ে পুলিশ সরাতে প্রশাসনকে দাবী দেন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে এইসব দাবী মেনে না নেয়া হলে আবারো সড়কে অবরোধসহ বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারীরা। এসময় ইউএনও মহিনুল হাসান বিক্ষোভকারীদের লিখিত অভিযোগসহ ১০ জনকে নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে মিমাংসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ করেন। ছাত্রলীগ নেতা আফাজউদ্দিন তুহিন বলেন, হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে জনগনের ক্ষোভ রয়েছে। আজকের ঘটনা খুবই মর্মান্তিক। এই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছিল। হাইওয়ে থেকে বাঁচতে গিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে দু’বছর আগে। মানুষের কাছে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তাই ফটিকছড়ি থেকে হাইওয়ে পুলিশ সড়াতে জোড় দাবী জানাচ্ছি। জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মোখতার হোসেন বলেন, এই ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ জড়িত নয়। আমরা হাইওয়ে সড়কে ফাঁড়ি বসাই। ঘটনার খবর পেয়ে দেখতে গিয়েছি। জনতার বিক্ষোভ দেখে ফিরে এসেছি। অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাইওয়ে সড়কে দৈনিক ১০টি করে মামলা দিতে হয়। আমরা তাও দিইনা। যারা মামলা খেয়েছে তারা হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মহিনুল হাসান বলেন, দুইটি শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছে। খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।


Leave a Reply

Your email address will not be published.

     এই বিভাগের আরও খবর