আজ এ কে এম মনসুর উদ্দিনের ৩৪ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ফুলেল শ্রদ্ধা


সাদ্দাম হোসেন।
কবি,সাহিত্যিক ও কলামিষ্ট এ.কে.এম.মনসুর উদ্দিনের ৩৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ছিলেন একজন লেখক,বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী চরলক্ষ্যা,চরপাথরঘাটা/জুলধার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান,চট্টগ্রাম জজকোর্টের সিনিয়র জুরি কবি এ.কে.এম মনসুর উদ্দীন। তার জন্ম ১৯২১ সালে চট্টগ্রামের পটিয়ায়/বর্তমান কর্ণফুলী এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান করেন যখন দেশ ভাগের আন্দোলন ছিল তুঙ্গে। কৈশোর থেকেই অজানা জগতের ডাকে তাঁর যাযাবর মন বারবার বেরিয়ে পড়েছে। মানুষের হৃদয়ের খুব কাছে তাঁর আজন্ম বসবাস,বিপুল সামাজিক কর্মকাণ্ড তার স্বাক্ষর রয়েছে। স্কুল জীবন থেকেই লেখালেখি শুরু। উত্তরকালে সাহিত্যের প্রধান শাখাগুলিতে স্বতঃস্ফূর্ত বিচরণ করলেও কবিতাই তার নিজস্ব আবাস। অন্তর্মুখীনতা ও অনবধানতায় সেসব পাণ্ডুলিপি আজ বিনষ্ট। তাঁর কবিতাপ্রেমিকদের অদম্য অনুসন্ধানের ফসল এই কাব্যগ্রন্থ।
কবি এ. কে. এম.মনসুর উদ্দীনের’ঝরাপাতা’ও অন্যান্য’মূলত তাঁর’ঝরাপাতা’কাব্যের দ্বিতীয় বা পরিবর্ধিত সংস্করণ।’ঝরাপাতা’প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯১ সালের নভেম্বর মাসে সুলেখা ছাপাঘর থেকে (প্রকাশক রফিক সিকদার)। তখন ৩৭টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলো। কবি এ.কে.এম,মনসুর উদ্দীন দিনের পর দিন কবিতা লিখে খাতা ভরিয়ে তুললেও তাঁর কবিপরিচিতি’ঝরাপাতা’ প্রকাশের পর। তবে তিনি তা স্বনয়নে দেখে যেতে পারেন নি। যখন কাব্যটি প্রকাশের পথে তখন তিনি ভয়ানক
ক্যান্সারে আক্রান্ত। সন্তানেরা তাঁর মৃত্যু নিকটবর্তী আশঙ্কা করে এক রজনির প্রথম প্রহরে তাঁকে কাব্যটির ট্রেসিং দেখালেন,এর কিছুক্ষণ পরে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। কবির কাছে কবিতা নিজ সন্তানের মতো ছিল। তিনি কাব্যটি না দেখতে পেয়ে বড়ো অতৃপ্ত আত্মা নিয়ে বিদায় জানান মনোহরা ধরিত্রীকে। ‘ঝরাপাতা’ প্রকাশের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালিন অধ্যাপক ও বাংলা বিভাগীয় প্রধান এই পর্বে মনসুর সাহেবের অপ্রকাশিত কিছু কবিতা-ছড়া এবং কিশোর কবিতা, এছাড়া তাঁর লেখা একাধিক চিঠি ও দিলওয়ার হোসেনের আলোচনাটি (শিরোনাম ‘নীরব কবির কাব্য’) অন্তর্ভুক্ত। প্রথম সংস্করণের অধিকাংশ কবিতা দিলওয়ার হোসেনের আলোচনায়’আধ্যাত্মিকতার স্পর্শে ঘনীভূত’বলা হয়েছে। অরূপ,সসীম-অসীম,পাপী,বন্দী কবিতাগুলো এক্ষেত্রে উল্লেখনীয়।’অন্যান্য’পর্বের কয়েকটি কবিতাও এরকম। মনসুর সাহেব সুফিধর্মীয় পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠা মানুষ বলেই এ ধরনের কবিতা রচনা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছে।
তিনি ২৯ জুন ১৯৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
একজন শ্রদ্ধেয় কবি,সাহিত্যিক হিসাবে তাঁর জীবন ও স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে মৃত্যুবার্ষিকীতে সশ্রদ্ধচিত্তে তাকে স্মরণ করছে তার পরিবার।
এ উপলক্ষ্যে আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মরহুমের নিজ বাড়ীর কবর স্থানে সকাল ১০টা থেকে কোরআনে খতম ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এই সময়
মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মোনাজাত করা হয়েছে।
এছাড়া মরহুমের জ্যেষ্ঠ পুত্র লেখক ও সংগঠক,মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রফিক সিকদার,তার ছোট ছেলে ডা.মো.তৌফিক,মো.তারিক সিকদার,আতিক সিকদার,মো.ছাদেক সিকদার,তাঁর সবাই উচ্চ শিক্ষিত। মেয়ে মিসেস রহিমা বেগম,মিসেস নাছিমা বেগম ও হুময়রা বেগম এর পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে নিজ বাসভবনে বাদ এশা কোরআনে খতম ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।


Related posts

এসএসসি রেজাল্ট: মেয়ের থেকেও বেশি পয়েন্ট পেয়ে পাশ করেছেন ইউপি সদস্য

Chatgarsangbad.net

চন্দনাইশে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ছিনতাই ঘটনায় কিশোর গ্যাং এর সদস্যসহ গ্রেফতার ৪

Chatgarsangbad.net

উখিয়ায় বনভুমির জায়গা দখল:প্লট বানিয়ে বিক্রি করছে নারী দখলদস্যু মিনু সিন্ডিকেট!

Chatgarsangbad.net

Leave a Comment